ইলিশ কাটলে ঘরে বানানোর সুস্বাদু রেসিপি
ইলিশ কাটা মাছ দিয়ে অল্প উপকরণেই ভাতের সঙ্গে মানানসই নানা পদ রান্না করা যায়। মাছের তাজা গন্ধ, নরম মাংস এবং স্বাভাবিক তেল ঠিকভাবে ধরে রাখতে পারলে সর্ষে ইলিশ, ভাপা ইলিশ, পাতলা ঝোল কিংবা কচুশাকের পদ—সবই অসাধারণ স্বাদের হয়।
কাটার সময় মাছের টুকরোগুলো খুব ছোট না করে মাঝারি আকারে রাখলে রান্নার পর মাংস ভেঙে যায় না। সাধারণত লেজের দিকের টুকরো ভাজার জন্য, পেটের অংশ সর্ষে বা ভাপা রান্নার জন্য এবং মাথা শাক বা ডালের সঙ্গে ব্যবহার করা যায়।
তাজা ও ভালো আকারের ইলিশ বেছে নেওয়া রান্নার স্বাদের প্রথম ধাপ। বিভিন্ন ওজনের ইলিশ, প্যাকেজিং ও ঘরে পৌঁছে দেওয়ার তথ্য দেখতে ইলিশের মানসম্মত সংগ্রহ ঘুরে দেখা যায়। মাছ হাতে পাওয়ার পর পরিষ্কার করে দ্রুত রান্না করলে স্বাদ ও গন্ধ দুটোই ভালো থাকে।
কাটার পর মাছ প্রস্তুত করার নিয়ম
মাছের আঁশ ছাড়িয়ে পেট পরিষ্কার করে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। অতিরিক্ত পানি ঝরিয়ে প্রতিটি টুকরোয় অল্প হলুদ ও লবণ মেখে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দিন। এতে কাঁচা গন্ধ কমে এবং রান্নার সময় মসলা মাছের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যায়।
ইলিশ বেশি ধুয়ে ফেললে স্বাভাবিক তেল ও স্বাদ কিছুটা কমে যেতে পারে। তাই পরিষ্কারের সময় জোরে ঘষাঘষি না করে আলতোভাবে ধোয়া ভালো। মেরিনেট করার আগে সরিষার তেল, লেবুর রস বা অতিরিক্ত মসলা ব্যবহার না করাই শ্রেয়, কারণ এতে ইলিশের নিজস্ব স্বাদ ঢাকা পড়ে।
সর্ষে ইলিশের ঝাঁঝালো স্বাদ
সর্ষে ইলিশের জন্য হলুদ মাখানো মাছ, সরিষা বাটা, কাঁচা মরিচ, লবণ, হলুদ, সরিষার তেল এবং সামান্য পানি লাগবে। সরিষা বাটার সঙ্গে অল্প লবণ ও কাঁচা মরিচ মিশিয়ে রাখলে তিতকুটে ভাব কমে। চাইলে সাদা ও কালো সরিষা একসঙ্গে বেটে ব্যবহার করা যায়।
কড়াইয়ে সরিষার তেল গরম করে মাছের টুকরো দুই পাশে হালকা ভেজে তুলে রাখুন। একই তেলে সরিষার মিশ্রণ অল্প আঁচে কষিয়ে পানি দিন, তারপর মাছ ও কয়েকটি কাঁচা মরিচ যোগ করুন। ঢেকে ৮ থেকে ১০ মিনিট রান্না করলেই ঝোল ঘন হয়ে আসবে। নামানোর আগে এক চামচ কাঁচা সরিষার তেল ছড়িয়ে দিলে ঘ্রাণ আরও বাড়ে।
পাতুরি বা ভাপা ইলিশের সহজ পদ্ধতি
ভাপা ইলিশে মাছ ভাজার প্রয়োজন হয় না, তাই মাংস নরম থাকে এবং ইলিশের তেল ভালোভাবে সংরক্ষিত হয়। সরিষা বাটা, নারকেল বাটা, কাঁচা মরিচ, লবণ ও সরিষার তেল একসঙ্গে মিশিয়ে মাছের টুকরোয় মেখে ১৫ মিনিট রেখে দিন।
মিশ্রণসহ মাছ কলাপাতায় মুড়ে সুতো দিয়ে বেঁধে ভাপে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রান্না করুন। কলাপাতা না থাকলে ঢাকনাযুক্ত স্টিলের বাটি ব্যবহার করা যায়। রান্নার মাঝখানে বারবার ঢাকনা খুলবেন না; বাষ্প বেরিয়ে গেলে মাছ শুকনো হয়ে যেতে পারে। গরম ভাতের সঙ্গে এই পদ পরিবেশন করলে আলাদা কোনো ভারী তরকারির প্রয়োজন হয় না।
মাথা দিয়ে কচুশাক বা ডালের পদ
ইলিশের মাথা ফেলে না দিয়ে কচুশাক, লাউশাক কিংবা মসুর ডালের সঙ্গে রান্না করা যায়। মাথাটি লবণ ও হলুদ মেখে ভালোভাবে ভেজে তুলে রাখুন। এরপর পেঁয়াজ, রসুন, শুকনো মরিচ ও সামান্য জিরা দিয়ে কষিয়ে পরিষ্কার করা শাক যোগ করুন।
শাক নরম হলে ভাজা মাথা দিয়ে অল্প পানি ঢেলে ঢেকে রান্না করুন। মাথার ভেতরের তেল ও মজ্জা শাকের সঙ্গে মিশে একটি গভীর স্বাদ তৈরি করে। ডালের ক্ষেত্রে আগে ডাল সেদ্ধ করে ভাজা ইলিশের মাথা, কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজ ফোড়ন দিয়ে কয়েক মিনিট ফুটিয়ে নিন। ইলিশের পুষ্টি ও হজম নিয়ে বিস্তারিত ইলিশের পুষ্টিগুণ পড়লে উপকরণ বাছাইয়েও সুবিধা হবে।
ভাজা ইলিশের পাতলা ঝোল
দুপুরের সহজ খাবারের জন্য ইলিশ ভাজা দিয়ে পাতলা ঝোল বেশ উপযোগী। মাছের টুকরো হালকা ভেজে আলাদা রাখুন। একই তেলে পেঁয়াজ, রসুন, হলুদ, মরিচের গুঁড়া ও লবণ কষিয়ে টমেটো বা আলু যোগ করা যায়। আলু ব্যবহার করলে আগে সামান্য সেদ্ধ করে নিলে রান্নার সময় কমে।
মসলা থেকে তেল ছাড়লে গরম পানি ঢেলে আলু নরম করুন। শেষে ভাজা মাছ, কাঁচা মরিচ ও ধনেপাতা দিয়ে ৫ থেকে ৬ মিনিট ঢেকে রাখুন। খুব বেশি নেড়ে মাছ উল্টানো উচিত নয়; এতে কাঁটা আলাদা হয়ে ঝোলে মিশে যেতে পারে। পাতলা ঝোলে ইলিশের স্বাদ পরিষ্কার থাকে এবং ভাতের সঙ্গে সহজে মিশে যায়।
রান্না ও পরিবেশনের কাজে লাগবে এমন পরামর্শ
মাছ কেনার সময় চোখ পরিষ্কার, গা উজ্জ্বল এবং শরীর শক্ত কি না দেখুন। প্যাকেটজাত মাছ হলে বরফের অবস্থা, কাটার তারিখ এবং সংরক্ষণের নিয়ম খেয়াল করা জরুরি। অর্ডার বা পণ্যের বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য জানতে যোগাযোগের ঠিকানা ব্যবহার করা যায়।
- মাছ কাটার পর পানি ভালোভাবে ঝরিয়ে মসলা মাখান।
- সরিষা বাটা বেশি সময় ভাজবেন না, এতে তিতকুটে স্বাদ হতে পারে।
- মাছ রান্নার সময় কড়াই বারবার নাড়ার বদলে আলতোভাবে ঝাঁকান।
- জমিয়ে রাখা ইলিশ রান্নার আগে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় গলিয়ে নিন।
- গরম ভাত, কাঁচা মরিচ ও সামান্য লেবুর সঙ্গে পদ পরিবেশন করুন।
রান্না করা ইলিশ দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রাখা ঠিক নয়। পরিবেশনের পর অবশিষ্ট অংশ দ্রুত ঠান্ডা করে ঢাকনাযুক্ত পাত্রে ফ্রিজে রাখুন এবং পুনরায় গরম করার সময় অল্প আঁচ ব্যবহার করুন। এতে মাছের মাংস শক্ত হবে না, তেলও আলাদা হয়ে নষ্ট হবে না।