ইলিশ ও নারকেল দুধ: সাতটি ভিন্ন রেসিপি

ইলিশের আলাদা স্বাদের সঙ্গে নারকেল দুধের কোমল, মিষ্টি সুগন্ধ মিললে বাঙালি রান্নাঘরের সাধারণ উপকরণ হয়ে ওঠে। হলুদ-মরিচের তীব্রতা আর নারকেলের স্নিগ্ধতা মিলিয়ে হালকা ঝোল থেকে ঘন ঝোল পর্যন্ত বিভিন্ন স্বাদ তৈরি করা যায়। সাতটি রেসিপিতে মাছের অংশ, ঝোলের ঘনত্ব ও রান্নার ধরন বদলে সব চেহারা আলাদা।

রান্নার আগে ইলিশ ভালো করে পরিষ্কার করে পেটের অংশ অপসারণ করুন। নারকেল দুধের জন্য সারা নারকেল থেকে তোলা দুধ ব্যবহার করলে ঘনত্ব স্বাভাবিক থাকে; ব্যবহারযোগ্য প্যাকেট নিলে দুধ ও ক্রিম আলাদা করে নিন। ঘোল বানানোর আগে দুধকে ফুটিয়ে নিলে তেল বের হয় না এবং স্বাদ আরও ভালোভাবে বোঝা যায়।

প্রতিটি পদ্ধতিতে তেল ও ঝাল আগে ধীরে গরম করা, মশলা কষানো এবং ঢাকনা দিয়ে ঝোল ঢালাই একই মূল নিয়ম। ইলিশকে অতিরিক্ত সেদ্ধ না করে ঝোলের তাপে রাখুন, যাতে মাছের নরম টেক্সচার ও স্বাদ দুটোই ধরে রাখা যায়। পরিবারের পছন্দ অনুযায়ী ঝাল কম-বেশি করে নেওয়া যায়।

নারকেল দুধে ইলিশ ভাজার সাস

প্রথম রেসিপি নারকেল দুধে ইলিশ ভাজার সাস। ৭০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ইলিশের পরিষ্কার টুকরো নিন। এক কাপ নারকেল দুধ, আধা চায়ের চামচ হলুদ, সামান্য লাল মরিচ গুঁড়ো, একটি পেঁয়াজ কুচি, আদা-কাঁচা মরিচ কুচি ও আধা চায়ের চামচ সরিষার তেল লাগবে। ইলিশে হলুদ ও লাল মরিচের সামান্য মাখলে সরিষার তেলে মাঝারি আঁচে ভাজুন; প্রতি পাশে তিন-চার মিনিট রাখলে ভেতরও পরিষ্কার হবে।

একই প্যানে কষানো পেঁয়াজ, আদা ও মরিচ দিয়ে স্বাদ ছাড়ুন। নারকেল দুধ, একটি টমেটো কুচি ও এক চিমটি চিনি মিশিয়ে ঝোলটি মাঝারি তাপে ফুটিয়ে সামান্য ঘন করুন। ভাজা ইলিশ ঝোলে মিশিয়ে পাঁচ মিনিট রাখুন, তারপর সবার উপর ধনেপাতা ও লেবুর রস দিন। ওয়েবসাইট থেকে উচ্চমানের ইলিশ নিতে চাইলে বিভিন্ন আকার ও বাংলাদেশি টাকার মূল্য দেখা যাবে।

ইলিশের ঝোলে নারকেল দুধের কোমল স্বাদ

দ্বিতীয় রেসিপি ইলিশের ঝোলে নারকেল দুধের কোমল স্বাদ। ৫০০-৬০০ গ্রাম ইলিশের মাছ ও কাঁটা আলাদা করে নিন। এক কাপ নারকেল দুধ, দুই কাপ পানি, আধা চায়ের চামচ হলুদ, এক চিমটি কালো মরিচ, একটি পেঁয়াজ, দুইটি করলা ফুল, আদা কুচি ও এক চিমটি সরিষার তেল প্রয়োজন। পেঁয়াজ ও আদা সরিষার তেলে সোনালি করুন, করলা ফুল ফুটিয়ে তা ঝোলে দিন।

ইলিশ ও সব মশলা ঝোলে নিয়ে ঢাকনা দিয়ে মাঝারি আঁচে আট-দশ মিনিট রান্না করুন। নারকেল দুধ শেষে মিশিয়ে আরও তিন মিনিট রাখুন; এতে মাছ নরম থাকে। ঝোল পরিবেশনের আগে স্বাদ দেখে চিনি বা লবণ ঠিক করুন। ধনেপাতা, কাঁচা মরিচ ও লেবুর রস ঝোলের তেলচে স্বাদকে আরও স্পষ্ট করে।

ফোড়া ইলিশের নারকেল দুধের করি

তৃতীয় রেসিপি ফোড়া ইলিশের নারকেল দুধের করি। ইলিশের মোটা টুকরো ভেঙে হাড় ও কাঁটা বের করুন। লবণ, হলুদ, আদা-গরম মসলার সামান্য মাখিয়ে ইলিশের টুকরোগুলো পনেরো মিনিট বিশ্রামে রাখুন। প্রতিটি টুকরো সরিষার তেলে বেগুনি রঙ না হওয়া পর্যন্ত ভাজুন এবং ছেঁকে রাখুন।

কষানো মশলার সঙ্গে নারকেল দুধ, পানি ও এক চিমটি চিনি মিশিয়ে ঝোল করুন। ভাজা মাছ ঢেকে রাখুন, ঝোল ফুটে উঠলে মাছ ঢুকিয়ে পাঁচ মিনিট রাখুন। মাপ ও সময় নিয়ে সংশয় হলে ওয়েবসাইটের রান্নার গাইড দেখতে পারেন। পরিবেশনের আগে ইলিশের উপর সামান্য ধনেপাতা ছড়িয়ে দিন।

নারকেল দুধের ইলিশ চটপটি

চতুর্থ রেসিপি নারকেল দুধের ইলিশ চটপটি। আধা কেজি ইলিশের পাতা বা ছোট টুকরো, এক কাপ নারকেল দুধ, দুইটি আলু, একটি পেঁয়াজ, এক টেবিল চামচ আদা-গরম মসলা, আধা চায়ের চামচ গরম মরিচ, হলুদ ও এক চিমটি চিনি লাগবে। আলু সেদ্ধ করে ম্যাশ করে নিন, পেঁয়াজ ও মশলা কষিয়ে নারকেল দুধের গ্রেভি তৈরি করুন।

আলু ও ইলিশ গ্রেভিতে ভালো করে মিশিয়ে ঢাকনা দিয়ে পাঁচ-ছয় মিনিট রাখুন। চটপটির নিজস্ব স্বাদ ধরে রাখতে বেশি মরিচ বা শসা দেওয়া বাদ দিন। পরিবেশনের সময় প্যানের নিচ থেকে আগে সিঙ্গারা বা সাদা ভাত, এরপর ইলিশ চটপটি দিন। উপরে ধনেপাতা ও এক চিমটি লেবুর রস স্বাদ বাড়ায়।

নারকেল দুধে ইলিশের ভাপা

পঞ্চম রেসিপি নারকেল দুধে ইলিশের ভাপা। পরিষ্কার ইলিশের পাতা একটি চওড়া পাত্রে সাজান। প্রতি ৫০০ গ্রাম মাছের জন্য এক কাপ নারকেল দুধ, একটি ছোট পেঁয়াজ কুচি, আদা-কাঁচা মরিচ কুচি, আধা চায়ের চামচ হলুদ, এক চিমটি সরিষার তেল ও চিনি দিন। মাছের নিচে পেঁয়াজ কুচি বিছিয়ে সব মশলা ও দুধ ঢালুন।

পাত্র ঢেকে মাঝারি আঁচে পনেরো মিনিট রান্না করুন। ঢাকনা খুলে সামান্য সরিষার তেল ছিটিয়ে আরও পাঁচ মিনিট রান্না করলে ঝোলের ঘনত্ব ও স্বাদ উন্নত হয়। পরিবেশনের আগে গরম ভাত, ধনেপাতা ও লেবুর রসের সঙ্গে দিন। ভাপার নিজস্ব স্বাদ রাখতে নারকেল দুধ বেশি পাতলা না করে স্বাভাবিক ঘনত্বে রাখুন।

নারকেল দুধের ইলিশ কোকা ও পুলাও

ষষ্ঠ রেসিপি নারকেল দুধের ইলিশের কোকা। এক কাপ নারকেল দুধে সেদ্ধ করা আলু, ইলিশের সামান্য কাঁটাময় অংশ, আধা চায়ের চামচ বেসন, এক চিমটি আদা-গরম মসলা, হলুদ, ধনেপাতা কুচি, লবণ ও এক চিমটি চিনি মেশান। হাতে ঢেলে গোল কোকা তৈরি করে সোনালি করে ভাজুন। ভাজা কোকা নারকেল দুধের ঝোলে দিয়ে মাঝারি আঁচে পাঁচ মিনিট সেদ্ধ করুন; ঝোলে সামান্য চিনি ও লেবুর রস দিলে স্বাদ গভীর হয়।

সপ্তম রেসিপি ইলিশের নারকেল পুলাও। এক কাপ চাল, ৫০০ গ্রাম ইলিশ, দুই কাপ পানি, এক কাপ নারকেল দুধ, পেঁয়াজ, আদা, ধনেপাতা, মসলা ও লবণ লাগবে। ইলিশ হালকা ভেজে আলাদা রাখুন। পেঁয়াজ ও মশলা ভেজে চাল, পানি ও নারকেল দুধ দিয়ে ঢাকনা বন্ধ করে ধীরে সেদ্ধ করুন। চাল নরম হলে ভাজা ইলিশ, ধনেপাতা ও কাঁচা মরিচ মিশিয়ে আরও পাঁচ মিনিট রাখুন। ঢাকনা খুলে ঝোল একটু কমিয়ে দিলে প্রতিটি চালে নারকেলের স্বাদ ছড়িয়ে পড়বে।

ইলিশ বাছার সময় মাছের চোখ ঝকসে, গায়ের রং উজ্জ্বল ও মাংস দৃঢ় থাকা দেখুন। ইলিশ হাটের অর্ডারের শর্তাবলি পড়ে সাইটে প্রায় ৭০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি আকারের ইলিশ, বাংলাদেশি টাকার মূল্য ও বিস্তারিত অর্ডারের তথ্য দেখা যায়। পণ্যের বিবরণে ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলে সেটি অনুসরণ করে তারপর রান্না শুরু করুন। ওয়েবসাইটে ফ্রি হোম ডেলিভারির কথা উল্লেখ থাকায় বাসায় ইলিশ পাঠানোর সুবিধাও পাওয়া যায়।